ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ । ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং প্রতিকার

ফুসফুস ক্যান্সারের প্রধান কারণ হচ্ছে তামাক গ্রহণ। প্রতিদিন যেসব ব্যাক্তি দুই থেকে তিন প্যাকেট সিগারেট গ্রহন করেন এবং ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে সেবন করছেন , এদের মধ্যে ৯০ ভাগ লোকের ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা সব থেকে বেশী থাকে।

ফুসফুস ক্যান্সার সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর।

প্রশ্ন পর্ব ১ : ফুসফুস ক্যান্সারের উপসর্গ কী?

উত্তর : ফুসফুসের ক্যান্সারের অনেক গুলো লক্ষণ রয়েছে। যদিও টিউমারের আকার ছোট হয় তাহলে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। যখন  টিউমারের পরিমাপ বড় হয় তখন লক্ষণ দেখা যায়। তখন থেকে কাশি থাকে এবং কাশির সঙ্গে রক্ত ঝরতে শুরু করে।  এ ছাড়া শরীরের ওজন কমে আসে,  এবং গলার স্বর ভেঙে যায়।

প্রশ্ন পর্ব ২  : কারো যদি ফুসফুসে ক্যান্সার হয় তখন কোন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?

উত্তর : যখন টিউমারটি অনেক ছোট থাকে, সুস্থ হওয়ার মতো, তখন সে ক্ষেত্রে  অনেক সময়  সমস্যা ধরা পড়ে না। কোনো টিউমার যদি পাশে থাকে সে ক্ষেত্রেও বোঝা যায় না। এটি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে । যারা ২০ থেকে ৩০ বছরের বেশি সময় থেকে  ধূমপান করে  তারা যদি এক্সরে করে  তাহলে অনেক সময় সমস্যা ধরা পড়তে পারে । এ রকম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৫ ভাগ রোগীকে নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।

প্রশ্ন পর্ব ৩ : যখন এ ধরনের সমস্যা নিয়ে আসে তখন কী কী পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং আপনাদের চিকিৎসা পদ্ধতিটি কীভাবে শুরু করে থাকেন ?

উত্তর : প্রথম দিকে সাধারনত  চিকিৎসকের কাছে যখন এই সমস্যাগুলো নিয়ে আসেন তখন ফাইনিরিলিস স্পিডিশন সাইটোলজি করতে বলা হয় এবং সিটি গাইটেট করা হয়। এগুলো করলে আমরা জানতে পারি ব্যক্তিটি কোন ধরনের ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে । পরবর্তীকাল  সময়ে দেখা হয় এটি অন্য কোথাও ছড়িয়ে আছে কি না। তখন  আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা এবং হাড় পরীক্ষা করা হয়। যদি না ছড়িয়ে থাকে তাহলে এক ধরনের চিকিৎসা এবং ছড়িয়ে থাকলে আরেক রকমের  চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এতে কোষের ভিন্নতাও আছে।  একটাকে বলা হয় স্মোলসার ফুসফুস ক্যান্সার। আরেকটিকে বলা হয়, স্কোয়ামাস ফুসফুস ক্যান্সার।

প্রশ্ন পর্ব ৪ : এ ক্ষেত্রে কী ধরনের  চিকিৎসা করা হয়?

উত্তর : প্রথম দিকে টিওমার ছোট থাকলে অপারেশন করা হয়। বড় হলে রেডিও থেরাপি কেমোথেরাপি দিয়ে  চিকিৎসা করে থাকি।

প্রশ্ন পর্ব ৫ : অনেকেরই এ সময় মানসিক অবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং অনেক খারাপ হয়ে যায় । এ সময় কীভাবে রোগীকে তার মানসিক অবস্থা উন্নতির জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে ? পাশাপাশি চিকিৎসা পরবর্তীকাল সময়ে আপনাদের পরামর্শ কী হয়ে থাকে ?

উত্তর : এই সমস্যা কে আমরা ব্রেকিং দি বেড নিউজ বলে থাকি। খারাপ সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য সবসময় একটি পদ্ধতি থাকা দরকার। এ ক্ষেত্রে আমরা তথ্যটি রোগী এবং তার আত্মীয়দের স্বজনদের কাছে ধীরে ধীরে পৌঁছাই। এবং প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আমরা এটা জানানোর চেষ্টা করি যে কেমোথেরাপি বা রেডিও থেরাপি কীভাবে দিতে হয়। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে । এগুলো বিস্তারিতভাবে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। তখন আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন পর্ব ৬  : কেমোথেরাপি এবং রেডিও থেরাপির এই দুটরি যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে এগুলো জানানোর পর পরামর্শগুলো রোগীরা কীভাবে নেয়?  এবং এই পরামর্শ তাদের কাছে কতটুকু ভূমিকা পালন করে বলে আপনি  মনে করেন?

উত্তর : আমরা দেখেছি রোগীরা প্রথম দিকে এই  বিষয়টি কিছুতেই  মানতে চায় না। আস্তে আস্তে তারা এ পরিস্থিতির সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম হয় ।

প্রশ্ন পর্ব ৭ : চিকিৎসার পর আবার কী ওই একই সমস্যা ফিরে আসে?

উত্তর : দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ফুসফুসের ক্যান্সার যদি একেবারেই প্রাথমিক সময় ধরা সম্ভব না হয় তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগীরা পাঁচ বছরের বেশি বেচে থাকে না।  এখন অনেক নতুন ধরনের  কেমোথেরাপি, রিসিপটর বেইজ কেমোথেরাপি আবিষ্কার হয়েছে । সেগুলো দিয়ে আমরা হয়তো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চেষ্টা করে থাকি যার ফলে  রোগীকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। আর প্রথম সময়ে যদি সেতা ধরা না পড়ে তাহলে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব  হয় না।  প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ার উপরে রোগীর সুস্থতা অনেকটা নির্ভর থাকে ।
প্রশ্ন পর্ব ৮ : প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার যাতে ধরা পড়ে সে জন্য সবার কি কী করা উচিত ?

উত্তর : যারা চেইন স্মোকার বা তামাক খেয়ে থাকেন  তাদের প্রত্যেক বছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অনেক তা  দরকার। এবং  ধূমপান বন্ধ করতে হবে। তারপর বুকের এক্সরে করে দেখতে হবে কী ফুসফুসের কি  অবস্থা। তার পরে প্রয়োজনে সিটি স্ক্যান বা অন্য বিষয়গুলো স্কান করতে হবে।

প্রশ্ন পর্ব ৯ : ধূমপায়ীর পরিবারের কী অন্য কারো ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?

উত্তর : দেখা গেছে, যে  লোক ধুমপান  করছে তার পরিবারের ২৫ ভাগ মানুষের মধ্যে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা  থাকে। ধূমপায়ীর অফিসের অন্যদের মধ্যে (২৫ ভাগ) ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা  থাকে।

প্রশ্ন পর্ব ১০ : আমাদের দেশের অনেক রোগী দেশের  বাইরে চলে যাচ্ছে। কেন তারা এমন করে, তাদের  কী মনে হয়?

উত্তর : সারা বাংলাদেশে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ ক্যান্সারের রোগী আছে কি তার অ কিছু বেসি। অথচ আমাদের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সংখ্যা দেড় শরও কম ।

বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান অ্যান্ড সার্জন, এ ব্যাপারে কাজ করে থাকে। তারা ফেলোশিপ দিয়ে থাকেন । কিন্তু আমাদের দেশে আরো ভালো কাজের জন্য কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়া যেত এবং কলেজের বিভাগগুলোকে যদি কলেজ করে দেওয়া হতো তাহলে ভালো হতো। আর যারা নতুন  পাস করে বের হচ্ছে তাদের কে যদি বিদেশে ছয় মাস বা এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারত  তাহলে বিশ্বমানের পুরোপুরি সেবাই আমরা আখন থেকে বাংলাদেশে দিতে পারতাম।

তবে এখন আমারা বাংলাদেসে  অবশ্যই অনেক উন্নতমানের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। আমাদের রোগীরা এখন আগের থেকে অনেক ভালো আছেন।

ফুসফুস ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণঃ

  ১.কাশিঃ  দুই-তৃতীয়াংশ রোগীর ক্ষেত্রেই অধিকাংশ  লাং ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে কাশি দেখা দিয়ে থাকে ।  এক্ষেত্রে শুকনো কাশি অথবা বার বার ঘন  কাশি হতে পারে, কাশির সাথে সাথে  অতিমাত্রায় কফ ও যেতে পারে অথবা রাতের দিকে কাশি অতিমাত্রআয়  প্রচণ্ড বেড়ে যেতে পারে।

  ২. কাশির সাথে রক্ত পরাঃ  এটিও ফুসফুস ক্যান্সারের একটি অন্যতম লক্ষণ এবং ধূমপানকারী পুরুষ রোগীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটি বেশী দেখা দিয়ে থাকে । এক্ষেত্রে কফের সাথে অথবা থুতুর সাথে  বা লালার সাথে রক্ত বের হওয়া  এবং দেখা যায় ফুসফুস এর কোন না কোন জায়গায় বারবার ইনফেকশন হতে থাকে।

৩. বুক ব্যথা হহওয়া ঃ প্রায় ৩০% ফুসফুস ক্যান্সারের রোগীর ক্ষেত্রে এই লক্ষণট অতিমাত্রআয়  দেখা যায়। টিউমার ফুসফুস ঝিল্লীর আশপাশে  হলে মাঝে মাঝে হালকা বা খুব জরে  বুক ব্যথা হয়ে থাকে কিন্তু টিউমারটি যদি ফুসফুস ঝিল্লী ভেদ করে থাকে তাহলে অনবরত বুকে ব্যথা থাকে।

৪. জ্বরঃ ক্যান্সারের কারণে জ্বর হয়ে থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি এর নিচে  থাকে । এক্ষেত্রে কোন অ্যান্টিবায়োটিক ও কাজ করে না এবং বার বার জ্বর আসতে থাকে।

৫. বুক ব্যথা এবং শ্বাস-কষ্টঃ ক্যান্সারের কারণে ফুসফুসের শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহন প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং বুকে বাথা হয় ।

৬. আঙুল ফুলে যাওয়াঃ এক্ষেত্রে আঙুল ফুলে যায় এবং অনেক  ব্যথা হয় বিশেষ করে আঙুলের গোঁড়ার দিক এবং নখের চারপাশ ফুলে জায় । এই লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে যাতে ক্যান্সারের বিস্তার রোধ করা যায়।
  
  ৭.বাতঃ শরীরের জোড়া অথবা  গাঁট যেমন হাঁটু,কনুই,কব্জি ইত্যাদিতে  প্রচন্দ ব্যথা হতে পারে। এমনকি ব্যথার কারণে হাত নড়াচড়া করতে বা হাঁটতেও অসুবিধা হতে পারে।

মডার্ন ক্যান্সার হসপিটাল গুয়াংজৌ এর বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তাঃ উপরোক্ত যেকোনো একটি  লক্ষণ দেখা মাত্রই পরবর্তী পরীক্ষার জন্য আপনাকে  হাসপাতালে যেতে হবে।

ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং প্রতিকার

ডা. জি এম ফারুক ; নবেম্বর মাস ফুসফুস ক্যান্সার সচেতনতার মাস হিসেবে পালিত হয়ে । অবশ্য নবেম্বর মাস প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সার সচেতনতার মাস হিসেবেও পালিত হয়। মূলত ফুসফুস ক্যান্সার  প্রতিরোধ প্রোগ্রামকে জোরদার করার জন্যই এ ধরনের মাস পালিত হয়।

ফুসফুস ক্যান্সার হলো সাধারণত  ফুসফুস কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি । প্রতিবছর বিশ্বে ৫৯০,০০০ জন লোক ফুসফুস ক্যান্সারে  আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ৮০-৯০ ভাগ ধূমপানজনিত কারণে। তামাকজাত ধূমপানের কারনে  চার হাজারের মত রাসায়নিক দ্রব্য থাকে, যার ১০০টি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। ধূমপান দ্বারা যে শুধু ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টি হয় এমনটি  নয়। ধূমপান দ্বারা কিডনি, মলাস্ত্র , মুখগহবর, পাকস্থলী, গলনালী,  এবং মহিলাদের জরায়ুমুখ ও যোনীমুখের ক্যান্সারও সৃষ্টি হতে পারে। এক হিসেবে জানা যায়, মহিলাদের মধ্যে ৪৯% ধূমপানজনিত ফুসফুস ক্যান্সার পাওয়া যাচ্ছে। বিগত চল্লিশ বছরে একটি  গবেষণায় দেখা গাসে মহিলাদের মধ্যে ধূমপানের মাত্রা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। যেখানে বিশ্বে মহিলাদের স্তন ক্যান্সার বাড়ছে আর  মৃত্যুর হার ও বাড়ছে , সেখানে বর্তমানে ফুসফুস ক্যান্সারের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এছাড়া সরাসরি ধূমপানের চেয়ে পরোক্ষ ধূমপানেও যে ফুসফুস ক্যান্সারের মাত্রা বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই বর্তমানে পরিবেশগত ধূমপান (Enviromental tobacco Smoke-ETS) কে “Known human carcinogen” বলা হয়। এভাবে ধূমপানজনিত ক্যান্সারে দিন দিন মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধূমপানকে এখন বলা হয়-Slow-Moving Suicide আমরা যদি ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে চাই, তাহলে ধূমপানের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বংশগত কারণ পরিবারের আপনজনদের মধ্যে কারো ফুসফুস ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে অন্য সদস্যের মধ্যে তা হতে পারে। অধূমপায়ীদের মধ্যে এ ধরনের ফুসফুস ক্যান্সার হতে পারে। ধূমপান ছাড়া সাদাপাতা, জর্দা, গুল গ্রহণেও ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শিল্পকারখানায় যারা কাজ করেন, কিংবা দীর্ঘসময় ধোয়ার ভেতর কাজ করেন, এমন শ্রমিকদের মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। পরিবেশগত কারণের মধ্যে রেড়ন (radon), অ্যাজবেসটস (asbestos), এবং বায়ু দূষণও ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে থাকে। তাই পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ করেও আমরা ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারি। ফুসফুস ক্যান্সার প্রাথমিক স্তরে ধরা বেশ কঠিন। রোগের গভীরতা এবং তীব্রতার সময়ই সাধারণত এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে অবিরত কাশি (Persistent cough), বুকে ব্যথা (chest pain), এবং বারবার ব্রঙ্কাইটিসের ইতিহাস থাকলে ফুসফুসে টিউমারের সম্ভাবনা চিন্তা করে থাকেন চিকিৎসকরা। এ ধরনের অবস্থায় সিটি স্ক্যান (CT) দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায়, ফুসফুসে কোন ক্যান্সার অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে কিনা। এক সময় বুকের এক্স-রে দ্বারা এ রোগ নির্ণয়ে কাজ করা হতো। তবে বর্তমানে ক্যান্সার নির্ণয়ে বুকের এক্স-রের গুরুত্ব কম।

ফুসফুস ক্যান্সার নির্ণয়ে যেসব লক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, কাশি, কাশির সাথে রক্ত, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, শ্বাস-প্রশাস্বের সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়া, স্বর ভঙ্গ বা গলা বসে যাওয়া, ক্ষুধা মন্দা, ওজন কমে যাওয়া এবং অবসাদগ্রস্ততা। ফুসফুস ক্যান্সারকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা হয়- প্রথমতঃ নন-স্মল সেল কারসিনোমা (non-small cell-NSCLC), দ্বিতীয় : স্মল সেল কারসিনোমা (NCLC)। এর মধ্যে নন-স্মল সেল শতকরা ৮০ ভাগ। এছাড়া ফুসফুস শরীরের অন্য অঙ্গের ক্যান্সার থেকে মেটাসটেসিসের মাধ্যমেও ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে থাকে। আবার ফুসফুস ক্যান্সার সহজেই মস্তিষ্ক (brain), হাড় (bones) এবং লিভারে (Liver)  মেটাসটেসিস হতে পারে। রোগ নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। সাধারণত এক্স-রে, সিটিস্ক্যান, স্পুটাম সাইটোলজি, বায়োপসি, ব্রঙ্কোস্কপি, দ্বারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় হয়ে থাকে। বর্তমান অধিকত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*